পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কল্যাণ-ডোম্বিভলি পুরসভার (কেডিএমসি) একটি উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে মহারাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও আম্বেদকরপন্থী সংগঠনগুলির অভিযোগ, অশোকনগরে অবস্থিত বুদ্ধ ভূমি ফাউন্ডেশনের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভগবান বুদ্ধের মূর্তি এবং ঐতিহাসিক ভীম কোরেগাঁও বিজয় স্মারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ফাউন্ডেশন। 

জানা যায়, ওই উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে বুদ্ধ ভূমি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন আম্বেদকরপন্থী সংগঠন, বৌদ্ধ ধর্মগুরু ও সমাজকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান ভান্তে গৌতম রতন মহাস্থবির। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্তে মহাস্থবির অভিযোগ করেন, গত ৩০ মে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তাঁর দাবি, জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই এবং ফাউন্ডেশনের পরিচালন সমিতিকে আলোচনায় না ডেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। তাদের কথায়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বা ফাউন্ডেশনকে না জানিয়ে পুলিশ ব্যবহার করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের দাবি, অভিযানের সময় ভগবান বুদ্ধের তিনটি মূর্তি এবং ভীম কোরেগাঁও বিজয় স্মারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনের মতে, এগুলি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন থেকে কেডিএমসি সদর দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বুদ্ধ ভূমি ফাউন্ডেশন। তাদের দাবি, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ ও আম্বেদকরপন্থী কর্মী ওই আন্দোলনে অংশ নেবেন। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে, পৌর কমিশনার অভিনব গোয়েল ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের অভিযোগ, এই ধ্বংসযজ্ঞ বৌদ্ধ ও আম্বেদকরপন্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আইনের আওতায় অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কল্যাণের সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে  এর আগে ঘটনাটির তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের আবেদন জানিয়ে পৌর কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে জমি, স্থাপনা এবং পৌরসভার গৃহীত পদক্ষেপের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কেডিএমসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।