পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে যোগী প্রশাসনের কঠোর দমনপীড়ন অভিযানের মুখে পড়ে এবার খতম হলো এক ত্রাস সৃষ্টিকারী সুপারি কিলার। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স-এর সাথে এক এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে ভানু প্রতাপ সিং নামের ওই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও তোলাবাজিসহ ৪০টিরও বেশি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। ইউপি এসটিএফ-এর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল অযোধ্যা এলাকায় ভানু প্রতাপকে ঘিরে ফেলে।

নিজেকে বাঁচাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে ভানু। পাল্টা জবাবে পুলিশও গুলি চালালে সে গুরুতর আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভানু প্রতাপ সিং উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলার পুলিশের কাছে এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।

সে এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে রাজ্যের তিনটি ভিন্ন জেলার পুলিশ তার মাথার ওপর আলাদা আলাদা পুরস্কার বা ইনাম ঘোষণা করে রেখেছিল। আজমগড় পুলিশ ভানুর খোঁজে ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। আম্বেদকর নগর পুলিশ তার মাথার ওপর ৫০, হাজার টাকার ইনাম রেখেছিল। গোরক্ষপুর পুলিশ আলাদাভাবে ১৫ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ভানু প্রতাপের মাথার ওপর মোট ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার যৌথ ইনাম ধার্য ছিল।

এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ভানু প্রতাপ মূলত টাকার বিনিময়ে খুন বা সুপারি কিলিং চক্রের সাথে যুক্ত ছিল। ৪০টিরও বেশি মামলা ঘাড়ে নিয়ে সে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক ছিল। শুধু তাই নয়, আইনের তোয়াক্কা না করে আদালতের একাধিক সমন ও ওয়ারেন্ট জারি হওয়া সত্ত্বেও সে বারবার শুনানিতে হাজিরা দেওয়া এড়িয়ে যাচ্ছিল।

এই এনকাউন্টারের পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীর কাছ থেকে বেশ কিছু বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভানু প্রতাপের মৃত্যুর ফলে উত্তরপ্রদেশের একটি বড় সুপারি কিলিং ও তোলাবাজি সিন্ডিকেট বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ঘটনার পর অযোধ্যা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।