পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশে ৬ এবং ৭ মে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ৩৫ টি এনকাউন্টার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে দুষ্কৃতীদের। ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, আহত হয়েছেন ৩৫ জন। এনকাউন্টারে ৪ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৃথক পৃথক এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা প্রথমে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা পুলিশও গুলি চালায়। ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ জানায় অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের পা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এনকাউন্টার শেষে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, যেসমস্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে রয়েছে হরদোই, মথুরা, বেরেলি, গোন্ডা, ইটাওয়া, শ্রাবস্তী, লখিমপুর খেরি, মুজাফফরনগর, শামলি, বারাণসী, ফতেহপুর, কৌশাম্বি, রায়বেরালি, আমরোহা, মৌ এবং জৌনপুর।
এরমধ্যে কিছু জায়গায় দুটি করে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে রয়েছে এছাড়া হরদোই, জৌনপুর, বারাণসী, বেরেলি, লখিমপুর খেরি ও রায়বেরেলিতে দুটি করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, শুধু মুজাফফরপুরেই ৭ টি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে কিছু জায়গায় অভিযান চালানোর সময় গুলি চালানোর প্রয়োজন হয়নি। সেক্ষেত্রেও বেশ কয়েকজনকে গ্রেস্ফতার করেছে পুলিশ। এক্ষেত্রে ধৃতদের সংখ্যা হল ২০ জন।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে তাদের ধরতে হানা দেয় পুলিশ। তখনই শুরু হয় দুপক্ষের গুলির লড়াই। জানা গিয়েছে, এনকাউন্টার চলাকালীন যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে মথুরায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনেই ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেই সময় অভিযুক্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
বাকি অভিজুক্ত্রা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের পায়ে গুলি চালায় পুলিশ। তাতে বেশ কয়েজন জখম হয়েছে। মৃত দুজনের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম হল রাজেন্দ্র ওরফে পাপ্পু এবং ধর্মবীর ওরফে লম্বু। দু’জনকে গ্রেফতারের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছেছিল। জানা গিয়েছে, একাধিক রাজ্যে তাদের যাতায়াত ছিল এবং তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজ্যে আত্মগোপন করে থাকত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।আরও পড়ুন:
এছাড়া আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে হরদোইয়ে। সেখানে ৭ বছরের এক শিশুকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে ওই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা ছিল এবং সে পলাতক ছিল। তাকে অনেকদিন ধরেই গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। পুলিশ সুত্রে জানা যাচ্ছে, ওই অভিযুক্ত বাইকে করে যাচ্ছিল। সেই সময় তাকে ঘিরে ধরে ফেলে পুলিশ।
তখন অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা পুলিশ গুলি চালালে ওই অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্যদিকে, এক পুলিশ আধিকারিকও গুলিবিদ্ধ হন। তবে তাঁর অবদথা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।আরও পড়ুন:
এদিকে, ফতেহপুরে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক পলাতক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতারের জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ। জানা গিয়েছে, সেখানে এনকাউন্টারে ওই অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। অন্য্যদিকে, মুজাফফরনগরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গত ৪০ ঘণ্টায় টানা অভিযানে ১৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন সংঘর্ষে আহত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তবে পুলিশের প্রথম লক্ষ্য থাকে সর্বনিম্ন বলপ্রয়োগ করে অভিযুক্তদের জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তবেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।