পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিওর দৌরাত্ম্য রুখতে এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর কণ্ঠস্বর এবং মুখমণ্ডল ব্যবহার করে তৈরি বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এই ভিডিওগুলোতে তাঁকে ‘পাকিস্তানের প্রশংসা’ করতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ।

তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ তথা বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান শশী থারুরের দায়ের করা আবেদনের শুনানি হয়।

বিচারপতি মিনি পুষ্করণা এই মামলার প্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স, মেটা এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে সমন জারি করেছেন। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, থারুরের পক্ষেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করা হতে পারে।

আদালতে শশী থারুরের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী অমিত সিব্বল। তিনি জানান, একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে থারুরের কণ্ঠস্বর, মুখ এবং ব্যক্তিত্বের অপব্যবহার করে একের পর এক ডিপফেক ভিডিও প্রকাশ করছে।

এই ভিডিওগুলোতে তাঁকে অত্যন্ত ‘রাজনৈতিক স্পর্শকাতর’ বিষয়ে মন্তব্য করতে এবং পাকিস্তানকে প্রশংসা করতে দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আইনজীবী সিব্বল আদালতে আবেদন জানান যে, এই ধরনের মানহানিকর ভিডিওগুলো অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সেলিব্রিটি ডিপফেক প্রযুক্তির শিকার হয়েছেন। শশী থারুরের মতো নেতার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। থারুরের দাবি, তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই ‘ডিজিটাল কারচুপি’ করা হয়েছে।