পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন দ্বিতীয় মোটরবাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আরও একটি চারচাকা গাড়ির খোঁজে তল্লাশি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন ওই গাড়িতে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। তারা কারা সেই তথ্য এখন জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশার দুষ্কৃতকারীদের ওপর নজর রাখছে।

সুত্রের খবর, বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে মোটরবাইকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গাড়িটির নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি জায়গা থেকে আরও একটি মোটরবাইক এবং একটি চারচাকা গাড়ি উদ্ধার হয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্ধার হওয়া চারচাকা গাড়িটির নম্বরপ্লেট ভুয়ো।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে,  উদ্ধার হওয়া মোটরবাইকের নথিভুক্ত মালিকের নামে যে ঠিকানা রয়েছে,  সেখানে বহু বছর ধরেই তিনি বসবাস করেন না।

বর্তমানে অন্য এক ব্যক্তি ওই ঠিকানায় থাকেন। ফলে এই নম্বরপ্লেট যে ভুয়ো সেই অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ আরও মনে করছে, একেবারে অনেকদিন ধরেই পরিকল্পনা করেই এই খুনের ঘটনা।  যে কারণে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। তব শুধু মোটর বাইকই নয়, চারচাকা গাড়ি নিয়েও তৈরি হয়েছে ধন্দ। এক্ষেত্রেও জাল নম্বর প্লেট ব্যবহার করার সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। গাড়িতে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন প্লেটটির সূত্র ধরে শিলিগুড়ির এক বাসিন্দার পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তিনি জানিয়েছেন যে খুনের সময় তাঁর গাড়িটি বাড়ির বাইরেই পার্ক করা ছিল। শিলিগুড়ি পুলিশও এই দাবিটির সত্যতা যাচাই করেছে। একইভাবে, একটি মোটরবাইকে ব্যবহৃত নম্বর প্লেটটির সূত্র ধরে বর্ধমানের এক বাসিন্দার পরিচয় পাওয়া গেছে, যার কাছে বাইকটি ছিল। 

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির ওই বাসিন্দা ওএলএক্সে গাড়িটি বিক্রির জন্য পোস্ট দিলে উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তি সেটি কেনার আগ্রহ দেখান।

এদিকে, হামলায় ব্যবহৃত দ্বিতীয় মোটরবাইক উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের একটি রেলগেটের কাছে পাওয়া যায়। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত দুটি বাইকের মধ্যে একটি দুই মাস আগে দমদমের বাসিন্দা ওই বাইকের মালিকের কাছ থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল। 

 তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মনে করা হচ্ছে, হামলার ঘটনায় একটি ভিন রাজ্যের গাড়ি ব্যবহার করা হতে পারে। সেই গাড়িতে কমপক্ষে ৭ জন আততায়ী থাকতে পারে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তারা ভিন রাজ্যের। এক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের যোগসুত্র পাওয়া যাচ্ছে। সেই সুত্রেই তদন্তকারীদের একটি দল রওনা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের উদ্দেশ্যে। 

উল্লেখ্য,  বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ তার বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার গাড়ির চালক গুরুতরভাবে আহত হন।

এসইউভিটির তৃতীয় যাত্রী রক্ষা পান।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত গাড়িগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

জানা যাচ্ছে, ওই রাতে চন্দ্রনাথ এজেসি বোস রোডের নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে নিজের বাসভবনের দিকে রওনা হয়েছিলেন। কলকাতা পুলিশ ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে, কোনো সন্দেহজনক গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছিল কি না। জানা যায়, নিজাম প্যালেসে যাওয়ার আগে চন্দ্রনাথ বিধানসভায় ছিলেন। ফলে বিধানসভার গেটের বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কলকাতা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে বিধানসভায় ঢোকার সময় বা বেরিয়ে যাওয়ার পরে তাঁকে কেউ অনুসরণ করছিল কি না এই সমস্ত কিছু এখন  জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

হামলায় ব্যবহৃত হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। সেটির নম্বর প্লেটও নকল। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার দিকে যাওয়ার আগে নিবেদিতা সেতু ব্যবহার করে, এরপর হুগলি নদীর এপারে প্রবেশ করেছিল। সেই কারণে হত্যাকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে নিবেদিতা সেতুর টোল প্লাজা এবং পথের পেট্রোল পাম্পগুলোর সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।