পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ তৃণমূলের বুথ সভাপতি খুনের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই বিজেপি কর্মী বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। বুধবার তাদের বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সকলকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার নানুরের সন্তোষপুরে বিজেপির বিজয় মিছিল ছিল। সেই মিছিল থেকে জনা পঞ্চাশেক লোক ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তৃণমূলের সন্তোষপুরের বুথ সভাপতি আবীর শেখ এবং সক্রিয় কর্মী চাঁদু শেখের উপরে চড়াও হয়। আবীরকে গলা কেটে খুন করা হয়।

চাঁদুকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। আবীর ঘটনাস্থলেই মারা যান। চাঁদু আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনার পর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে ধরপাকড় শুরু করে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন সহ আরও অনেকের নামে অভিযোগ দায়ের হয়।
তাদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম হেমন্ত দত্ত, সঞ্জয় দাস, লালন দাস ও সুকুমার দাস। সকলের বাড়ি সন্তোষপুর গ্রামে। বুধবার তাদের বোলপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। তৃণমূলের নব নির্বাচিত প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি বলেন, 'রাজনৈতিক আক্রোশেই আমাদের বুথ সভাপতিকে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলেই বিজেপি কর্মী।

' বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল বলেন, 'অভিযুক্ত আমাদের কর্মী কিনা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না। তবে দল এই ধরণের সন্ত্রাস বরদাস্ত করে না। আমরা আজই পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে ভোট পরবর্তী সস্ত্রাস কড়া হাতে দমন করতে বলেছি। আমরাও দলগত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।' সরকারি আইনজীবী প্রবাল রায় বলেন, 'অভিযুক্তরা সম্মিলিত ভাবে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ ধৃতদের ১৪ দিন হেফাজত চেয়েছিল। আদালত ১২ দিন মঞ্জুর করেছে।' পুলিশ জানায়, বাকি অভিযুক্তদের ধরার জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।