পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ টানা তৃতীয়বার নন্দীগ্রামের মানুষের বিপুল সমর্থন পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ ও ২০২১-এর পর এবারও বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটিতে প্রভাব আরও স্পষ্ট করলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি নয় হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বুধবার সকালে নন্দীগ্রামে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। জনতার উচ্ছ্বাসের মাঝে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষের এই আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান তিনি কাজের মাধ্যমে দেবেন। শুধু তাই নয়, তাঁর ভবিষৎবাণী বিজেপি ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে।

 

নির্বাচনী ফল ঘোষণার পরদিনই ভবানীপুরে গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন শুভেন্দু। তার পরদিন সকালে তিনি পৌঁছন নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিভূমি নন্দীগ্রামে। সেখানে প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন, তারপর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে এলাকায় ভিড় জমে যায়। সমর্থকদের একাংশ প্রকাশ্যেই দাবি তোলেন, এবার রাজ্যের শাসনভার তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হোক। মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নানা সঙ্গী, আন্দোলনের সহযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন।

তাঁদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের উন্নয়নের জন্য আরও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন,  এই এলাকার মানুষ বারবার তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন কখনও সাংসদ হিসেবে,  কখনও বিধায়ক হিসেবে। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আজীবন থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এবার তিনি দুটি কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছাড়তেই হবে। তবে কোন আসন তিনি রাখবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের উপর নির্ভর করছে বলে জানান। যদিও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আসন যাই হোক, নন্দীগ্রাম কিংবা ভবানীপুর, দুই জায়গার মানুষের পাশেই তিনি থাকবেন।

কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বিশেষ বার্তাও দেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনও পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। যদি কোথাও অন্যায় হয়ে থাকে, তার মোকাবিলা আইনের পথেই করা হবে। রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি দাবি করেন, আগামী দীর্ঘ সময় বাংলার রাজনীতিতে তাঁদের দলই নেতৃত্ব দেবে। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে আরও উৎসাহ দেখা যায়।