পুবের কলম প্রতিবেদক: দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী(পিএ)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ১১টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মধ্যমগ্রামে। মৃতের নাম চন্দ্রনাথ রথ। বাইকে করে এসে স্করপিও গাড়িতে থাকা চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে সঙ্গেসঙ্গেই মধ্যমগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা  দেন শুভেন্দু অধিকারী৷

জানা গিয়েছে, এ দিন দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ৷ রাতে বাড়ি ফেরার সময় মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসছিলেন চন্দ্রনাথ রথ৷ খুব কাছ থেকে চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় অভিযুক্তরা৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,দুটো গুলি লেগেছে বুকের বাঁদিকে। একেবারে হার্ট ফুটো করে গিয়েছে বলেই ওখানেই স্পট ডেড হয়ে গিয়েছেন চন্দ্রনাথ রথ।' 

এই ঘটনার পর পরই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা৷। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ চন্দ্রনাথের শরীরে অন্তত তিনটি গুলি লেগেছে বলে খবর৷ গাড়ি চালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু বরাত জোরে ড্রাইভার বেঁচে গেছেন বলেই জানা গেছে জানগেছে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার বাইপাসের ধারের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।  প্রসঙ্গত , আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ দীর্ঘ দিন ধরেই মধ্যমগ্রামের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে কে বা কারা কী কারণে গুলি করল তা এখনও স্পষ্ট নয়৷   
পেশাগত জীবনে চন্দ্রনাথ আগে ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচারের কাজে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। 

ইতিমধ্যেই ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিজেপি-র বহু নেতাকর্মী৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জেলার পুলিশ সুপার সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা৷ 

শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে খুনের  তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল।  ঘটনায় আদালতের নজরদারি  সিবিআই তদন্ত  ও দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে তারা।