পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে মুর্শিদাবাদে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক অশান্তি ও হিংসার অভিযোগে কলকাতা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।

আবেদনে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, ভোটকে কেন্দ্র করে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা হয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর,  মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এতকিছুর পরেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে।

২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন তাঁর উপর হামলার ঘটনাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ,  সেদিন তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

দলের কর্মীদেরও আক্রান্ত হতে হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি। হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, এই ধরনের হিংসা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। সংবিধানে প্রদত্ত সমানাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আক্রান্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশ চেয়েছেন তিনি।

আদালতের কাছে তাঁর মূল আবেদন, অবিলম্বে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগগুলি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন হুমায়ুন কবীর। এরপর তিনি নতুন রাজনৈতিক দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন। এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা দুটি কেন্দ্র থেকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। যদিও রাজ্যের অন্য কোনও কেন্দ্রে তাঁর দলের প্রার্থীরা জয়ের মুখ দেখেননি। ভোটে জয়ের পর এবার জেলার রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।