পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সম্ভাব্য অশান্তিকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ ঘিরে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদলের অভিযোগ, আগের নির্দেশে আদালত স্পষ্ট অবস্থান জানালেও নির্বাচন কমিশন এখনও একইভাবে নামের তালিকা তৈরি করে ধরপাকড় চালাচ্ছে। তারা হলে তৃণমূল কর্মী। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার, শেষ দফার ভোটের ঠিক আগের দিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়েরের অনুমতি দেয়।
আদালত জানায়, আবেদন জমা পড়ার পর শুনানির দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। নির্বাচন কমিশন আগে নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে যাঁদের অশান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত মোট ১৫৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। সেখানে ধরা হয়েছে ৪৭৯ জনকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতারির সংখ্যা ২৪৬। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন এবং হুগলিতে ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। নদিয়াতেও গ্রেফতার হয়েছে ৩২ জন।আরও পড়ুন:
তবে এর আগেই একই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রথম দফার ভোটের আগে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র কাউকে সমস্যা সৃষ্টিকারী বলে চিহ্নিত করলেই নির্বিচারে গ্রেফতার করা যাবে না।
কাউকে সতর্কতামূলক হেফাজতে নিতেও আইনের নির্দিষ্ট বিধি মানতেই হবে।আরও পড়ুন:
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছিল, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। কোনও বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট আইন কার্যকর থাকে, তাহলে কমিশনকেও সেই আইনের মধ্যেই কাজ করতে হবে। আদালতের বক্তব্য ছিল, নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে হলে আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। কোনও ব্যক্তি অপরাধ করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে ব্যাপক ধরপাকড় গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন:
উচ্চ আদালত আরও জানিয়েছিল, কমিশন যদি এই ধরনের গণগ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে তার উপর স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। সেই সময় তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, প্রায় ৮০০ দলীয় কর্মীকে আটক করা হতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল শাসকদল।