পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার সুন্দরগড় জেলায় এক পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী থাকল সমাজ। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৭ বছরের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম সত্যবান সিং। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা মহুয়া ফুল সংগ্রহ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন।
বাড়িতে একাই ছিল শিশুটি। প্রতিবেশী সত্যবান জানত যে বাড়িতে বড় কেউ নেই। সেই সুযোগে সে শিশুটিকে বিস্কুট দেওয়ার নাম করে নিজের বাড়িতে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়।আরও পড়ুন:
বাচ্চাটির বাবা-মা বাড়ি ফিরে দেখেন মেয়েটি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে আছে। মায়ের কাছে শিশুটি পুরো বিষয়টি খুলে বললে পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীদের খবর দেন।
এরপর গ্রামের মোড়ল ও পঞ্চায়েত সদস্যদের উপস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ একটি সালিশি সভা চলে। তবে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পরেও কোনো সমাধান সূত্র না মেলায় নির্যাতিতার মা শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।আরও পড়ুন:
অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সুন্দরগড় থানার পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্ত সত্যবান সিংকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুন্দরগড়ের এসডিপিও নির্মল মহাপাত্র জানান, "অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। শিশুটি এবং অভিযুক্ত— উভয়েরই ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ ধৃতকে পকসো আইনের অধীনে আদালতে পেশ করা হয়েছে।"আরও পড়ুন:
এদিকে নির্যাতিতা শিশুটিকে সুন্দরগড় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে শিশুটির কাউন্সেলিং চলছে যাতে সে এই মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারে। পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।