পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি সমস্ত রকম বেআইনি নির্মাণ ও কাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন জম্মুর সীমান্ত অঞ্চলের গ্রামবাসীরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার এবং ভারত-বিরোধী শক্তির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বড়সড় লাগাম টানা সম্ভব হবে। সুচেতগড়ের সরপঞ্চ শরণ সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “অমিত শাহের এই কড়া নির্দেশ সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারী এবং অন্যান্য দেশবিরোধী উপাদানগুলির অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি বজায় রাখতে হবে। গত কয়েক বছরে এই এলাকায় যে সমস্ত অবৈধ কাঠামো বা বেআইনি পাকা বাড়ি গড়ে উঠেছে, সেগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় হওয়া সন্দেহজনক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো। জালিয়াতি রুখতে ভুয়ো পরিচয়পত্র ও জাল আধার কার্ডের ব্যবহার ট্র্যাক করা।

সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির ফাণ্ডিং বা তহবিলের উৎস খতিয়ে দেখা। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অনুপ্রবেশের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিল্যান্স বা যৌথ নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন।

পাকিস্তান-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসের শিকার হওয়া সীমান্তবাসীদের অভিযোগ, মাদক পাচারের লভ্যাংশ দিয়েই এই সমস্ত বেআইনি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সাম্বা এলাকার বাসিন্দা রতন লাল বলেন, “অনেকে মাদক পাচারের টাকা দিয়ে এখানে বড় বড় বাড়ি বানিয়েছে। এই বেআইনি বাড়িগুলিও ভেঙে ফেলা উচিত।” গ্রামবাসীদের একাংশের বিশ্বাস, এই অবৈধ পরিকাঠামো ও বাড়িগুলির বেশ কিছু অংশ ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার এবং মাদক পাচার চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।