তৃণমূল জমানায় বাংলার শিল্প ও বাণিজ্যের দশা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। টাটা গোষ্ঠী থেকে শুরু করে একাধিক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাংলা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তবে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দফতর বন্টন সম্পন্ন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তাপস রায়। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি রাজ্যে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে এবং টাটাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছেন মানিকতলার এই বিধায়ক।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শিল্পায়নই এখন সরকারের প্রধান ভবিষ্যৎ।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যাতে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী রাজ্যে কাজ পায়, তা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠী যদি পুনরায় কারখানা তৈরি করতে চায়, তবে তারা তা করতেই পারে। শুধু গাড়ির কারখানা নয়, টাটার আরও অনেক ধরনের ব্যবসায়িক শাখা রয়েছে। আমরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করব যাতে তারা রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারে এবং রাজ্যে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়।

তাপস রায় আরও যোগ করেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি, কর্মসংস্থান হয়নি, কৃষির অবস্থাও ছিল অত্যন্ত করুণ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পেনে গিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করলেও বাংলায় কোনো বিনিয়োগ আসেনি।

আমরা শিল্পের জন্য সম্মেলন করব, তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা সময় সাপেক্ষ। বহু বছর ধরে এই রাজ্য শিল্পের ক্ষেত্রে চরম উপেক্ষিত ছিল। শুধুমাত্র লোক দেখানো কাজ হয়েছে, আর গুন্ডামি ও তোলাবাজির কারণে শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তারা রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তৃণমূল জমানায় প্রায় ৬৬৮৮টি ছোট, বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাজ্য থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নতুন শিল্পমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরপরই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শিল্প নিয়ে বড় আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি জানান, বিজেপির আমলে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটবে।

বিনিয়োগকারীরা নির্ভয়ে এখানে মূলধন বিনিয়োগ করতে পারবেন। শিল্পায়নের জন্য ল্যান্ড ব্যাংক এবং জমির জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, যেসব শিল্পগোষ্ঠী রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে, তারা ঠিক কী কারণে বাধ্য হয়েছিল, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিনি তৈরি করবেন। আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমি নিজে টাটা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাব।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৩ জুন রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাঁকরাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে আমুল গোষ্ঠীর সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা রয়েছে, যা উদ্বোধনের কথা রয়েছে তাঁর। ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ একাধিকবার বাংলায় শিল্প ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরেই সরকার গঠনের পর বড় বড় শিল্পপতিরা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করছেন। তবে নতুন শিল্পমন্ত্রী যে এবার টাটাকে ফেরাতে বদ্ধপরিকর এবং রাজ্যে শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে চান, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।