পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ গ্রামীণ কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুয়ো সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্প। আর এই প্রকল্পে কাজ পেতে হলে উপভোক্তাদের ফেস অথেন্টিকেশন বা মুখের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে কোনওভাবেই কাজের অনুমোদন মিলবে না বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক নথিভুক্ত শ্রমিককে কাজের জন্য উপস্থিত হওয়ার সময় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। মোবাইল সংযোগ সক্রিয় করার সময় যেভাবে ফেস অথেন্টিকেশন যাচাই করা হয়, ঠিক একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এই প্রকল্পেও।
সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে জব কার্ডধারীদের পরিচয় আপডেটের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন শ্রমিকদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মুখের ছবি যাচাই করা হবে। সেই কারণে আগে থেকেই প্রত্যেক উপভোক্তার তথ্যভাণ্ডার সম্পূর্ণ আপডেট রাখা জরুরি। পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে প্রকল্পের অধীনে কাজ পাওয়া যাবে না।আরও পড়ুন:
এতদিন কর্মস্থলে উপস্থিতির তথ্য হাতে লিখে বা সাধারণ অনলাইন নথিভুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হত। ফলে বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত শ্রমিকের পরিবর্তে অন্য কেউ কাজ করে সুবিধা ভোগের অভিযোগ উঠত।
নতুন ব্যবস্থায় একেবারে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন ডিজিটাল ডিভাইস অর্থাৎ মোবাইল বা ল্যাপটপে এনএমএমএস অ্যাপ-র মাধ্যমে স্ক্যান করে উপভোক্তার পরিচয় যাচাই হবে। শ্রমিকের মুখের ছবি সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। মিল পাওয়া গেলেই কেবল তাঁর উপস্থিতি গ্রহণ করা হবে এবং কাজের অনুমতি মিলবে। দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, এই প্রযুক্তি মূলত নিশ্চিত করবে যে যিনি কাজ করতে এসেছেন তিনিই প্রকৃত নথিভুক্ত উপভোক্তা কি না। পরিচয় যাচাইয়ের এই পদ্ধতি পাসওয়ার্ড বা আঙুলের ছাপভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতোই নির্ভরযোগ্য এবং জালিয়াতির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।আরও পড়ুন:
তবে এই নতুন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
যেসব এলাকায় মোবাইল বা ইন্টারনেট পরিষেবা দুর্বল, সেখানে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় এখনও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি উন্নত হয়নি। ফলে সেখানে পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নতুন প্রকল্পে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষি মৌসুমের বাইরে শ্রমিকদের অন্তত ৬০ দিন কাজ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় এমন স্পষ্ট শর্ত ছিল না। এর ফলে বছরের এমন সময়ে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যখন গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব সবচেয়ে বেশি থাকে।