পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
বাঙালির হৃদয়ে, চেতনায়, মননে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম চির ভাস্বর। সুখে, দু:খে, প্রেমে, অপ্রেমে, বিদ্রোহে,বিরহে তাঁরা রয়েছেন সব সময়ে। রবীন্দ্রনাথ যখন খ্যাতির মধ্য গগনে, তখন রবীন্দ্র-বলয় থেকে প্রভাব মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব সাবলীল ভঙ্গিতে সাহিত্য রচনা শুরু করেন নজরুল। তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল শ্রদ্ধার,স্নেহের।বিভিন্ন সময়ে দুই কবির সাক্ষাতে তৈরি হয়েছে অমূল্য কিছু মুহূর্ত, রচিত হয়েছে ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

বিশ্বকবির আশীর্বাদ, প্রেরণা জুগিয়েছে দুখু মিঞার বিভিন্ন সৃষ্টিতে।মনের রবি আর প্রাণের কাজীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল জন্মজয়ন্তীতে 'রানাঘাট মৈত্রী – র বিনম্র নিবেদন ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় নজরুল’।
 গত রবিবার(৭ জুন ) রানাঘাট পৌরসভার  'চূর্ণী' হলে। দুই  কবিকে নিয়ে আলোচনা করেন সভাপতি সুবীর ভৌমিক, কবি রতন দেবনাথ, শিক্ষক কুঞ্জবন বিশ্বাস, দেবদর্শন বন্দ্যোপাধ্যায়, অলোক দাস প্রমুখ।সঙ্গীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন, সৌম্যশ্রী  ভৌমিক , সায়নী মুখার্জী , সৃজনী মুখার্জী ,দেবযানী  হোড. অস্পরা কর  প্রমুখ।
 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,''সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় নজরুল। যতই আসুক বিঘ্ন বিপদ হাওয়া হোক প্রতিকূল। এক হাতে বাজে অগ্নিবীণা কন্ঠে গীতাঞ্জলী। হাজার তারা...সূর্য... এখানে আমরা যে পথ চলি'' ...রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন নোবেল পুরস্কার পান তখন কাজী নজরুল ইসলামের বয়স প্রায় ১৪ বছর। প্রথম জীবন থেকেই রবীন্দ্র-নিন্দা তার পক্ষে ছিল সহ্যের অতীত ।
নজরুলের রবীন্দ্র-ভজনাকে বিদ্রুপ করে খেলার মাঠে হাতে হাতে ফল পেয়েছিলেন তার বন্ধুরা। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে গোলপোস্ট উপড়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন কিশোর কবি। বন্ধু জগৎ রায়ের মাথা ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটলে বিষয়টি পুলিশ-আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারে আদেশ হয় তাকে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানোর। শেষ পর্যন্ত অল্প বয়স বলে বিচারক নজরুলকে ক্ষমা করেন এবং কিছু সময় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রেখে কারাবাসের আদেশ প্রত্যাহার করেন। রবীন্দ্র-অনুরাগের এ রকম পরিণতি বাংলা সাহিত্যের আর কোন কবির জীবনে ঘটেনি বোধ হয় ।"

 সমগ্র অনুষ্ঠানের  সঞ্চালনায়  ছিলেন দীপমালা  বন্দ্যোপাধ্যায় ।