পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আরও একবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল এআইএডিএমকে। মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর এআইএডিএমকে দলের ২১ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিরুদ্ধে আনা অযোগ্যতার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামী রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

রাজ্যের আস্থা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের টিভিকে'কের সরকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন এআইএডিএমকে-র ওই ২১ জন বিদ্রোহী বিধায়ক। তাঁদের সমর্থনের ভিত্তিতেই সরকার খুব সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

অন্যদিকে, পালানিস্বামীর অনুগত বিধায়কেরা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করেন। এই ঘটনার ফলে দলের মধ্যকার বিভাজন সবার সামনে চলে আসে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই আস্থা ভোটের পর পালানিস্বামীর সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে বিদ্রোহী শিবিরের পাঁচ জন বিধায়ক পুনরায় পালানিস্বামীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন, যার ফলে তাঁর শিবিরের শক্তি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও দলীয় সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা যথেষ্ট হলেও দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় শাসক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক তাদের হাতে ছিল না।

এরপর বিদ্রোহীরা যাতে সদস্যপদ হারান, সেই দাবি জানিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিল এআইএডিএমকে। কিন্তু স্পিকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে বিদ্রোহী বিধায়কদের সদস্যপদ আপাতত অক্ষুণ্ণই থাকল। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই ঘটনাটি দলটির ভবিষ্যৎ কৌশলের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আস্থা ভোটে সরকারকে সমর্থন জানানো পঁচিশ জন বিধায়কের মধ্যে চার জন ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দলে যোগ দিয়েছেন। এই নতুন সমীকরণ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে ৪৭ টি আসন পেলেও বিজয়ের দল ১০৮ টি আসন জিতে বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।