তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন এবং সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহের আবহে দলের বিদ্রোহী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আর জি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শর্মিলা সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল, যদি সত্যিই জানেন, তাহলে সিবিআইকে গিয়ে তা বলুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আর জি কর-কাণ্ডে তৎকালীন রাজ্য সরকার তথ্য গোপন করেছে।

ফলে কল্যাণের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

এদিন বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘সুখের পায়রা’ বলে কটাক্ষ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি দাবি করেন, দলের অধিকাংশ বিদ্রোহী নেতা ২০১১ সালের পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন এবং দলের আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক ছিল না।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আর জি কর ইস্যুতে তাঁরা কবে রাস্তায় নেমেছিলেন। একইসঙ্গে আর জি কর-কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়া অভয়ার মা রত্না দেবনাথকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূলের সাম্প্রতিক ভাঙন নিয়েও সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ক্ষমতা হারানোর পর অনেকেই রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দল ছাড়ছেন। বিজেপির উদ্দেশেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সব ধরনের নেতাকে বিজেপি গ্রহণ করবে না, কারণ বিভিন্ন নেতার অতীত সম্পর্কে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

তবে দলীয় সঙ্কটের মধ্যেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি অতীতেও দলের নেত্রীর পাশে ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে টাকা বা ক্ষমতা নেই, আছে মা-মাটি-মানুষের আদর্শ।”