পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাক ইস্যুতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হল জলপাইগুড়িতে। সীমান্তের জিরো লাইনে প্রায় দু’দিন আটকে থাকার পর ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে এল বিএসএফ। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আপাতত ওই ১০ জনকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিএসএফ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি বেরুবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং সীমান্তের ওপারের স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার কারণে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝামাঝি জিরো লাইনে আটকে পড়েন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, দু’দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন ওই ১০ জন। সোমবার ভোরে বিএসএফ তাঁদের সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রথমে কোতোয়ালি থানার হাতে তুলে দেয়।
পরে পুলিশ তাঁদের জলপাইগুড়ি রিজিওনাল ট্রেনিং সেন্টারের হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করে।আরও পড়ুন:
আটকদের মধ্যে রয়েছেন যশোর জেলার বাসিন্দা মহম্মদ আবদুল সালাম, তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন এবং তাঁদের ছয় বছরের ছেলে। এছাড়াও কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বাসিন্দারাও ওই দলে ছিলেন। দুটি পরিবারের পাশাপাশি কয়েকজন পৃথক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে।
সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাক ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বেড়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে নিজ নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
আরও পড়ুন:
বেরুবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান দিলীপকুমার দাস বলেন, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁদের দেশে ফেরানো উচিত। তাঁর দাবি, দু’দিন জিরো লাইনে আটকে থাকার পর ওই ১০ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসতে হয়েছে, যা সীমান্ত পরিস্থিতির জটিলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।