পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে। তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাংসদের বিদ্রোহ সামনে এসেছে। ঘাসফুল শিবিরে ধাক্কা অব্যাহত রয়েছে। এবার তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়ালেন দলের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়ারা। কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মঙ্গলবার তিন জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বেসুরো বিধায়ক ও সাংসদ।

সকালে বৈঠকে দেখা যায়, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এবং ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী উপস্থিত হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নিজেদের নাম জড়িয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছানোর পরেই দেব সেখানে যোগ দেন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে তিন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদেরও ডাকা হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনপরিষেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখান থেকে তিন জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর শিউলি সাহা বলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তাঁর বক্তব্য, আগে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের বৈঠকে সাধারণত ডাকা হতো না। অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।