দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তিশালী ইবাদত। মহান আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বান্দার সরাসরি সম্পর্কের মাধ্যম হলো দোয়া। কোরআন ও হাদিসে বারবার দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সুরা গাফির: ৬০)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও উম্মতকে এমন কিছু সহজ দোয়া শিখিয়েছেন, যেগুলোর ফজিলত অত্যন্ত মহান।

এসব দোয়ার মাধ্যমে জান্নাত লাভের আশা করা যায় এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রার্থনা করা যায়।

১. যে দোয়া পাঠে জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার সুসংবাদ

হাদিসে বর্ণিত একটি সংক্ষিপ্ত অথচ মহামূল্যবান দোয়া হলো—

'রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাউ ওয়া বিল ইসলামি দ্বিনাউ ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যাও ওয়া রসুলা'।

অর্থ: আমি আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার জীবনব্যবস্থা এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে আমার নবী ও রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৯)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি সকালে এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেওয়ার সুপারিশ করবেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)।

২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের সহজ দোয়া

জান্নাত প্রার্থনা এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি অত্যন্ত সহজ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন—

'আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকাল জান্নাতা, ওয়া আউজু বিকার মিনান-নার।’ 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত কামনা করছি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে বারবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত আল্লাহর দরবারে তার জন্য সুপারিশ করে। আর যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, জাহান্নামও তার মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন জানায়। (সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ)

 অল্প শব্দের এই দোয়াগুলো একজন মুমিনের অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তা সৃষ্টি করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়তা করে এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।