মানুষ সামাজিক জীব। পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে। ইসলাম মুমিনদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে অসংখ্য নির্দেশনা ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মহান আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে পারো।” — (সূরা হুজুরাত: ১০)
আরও পড়ুন:
মুমিনদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
এ জন্য অনেক সময় নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়, অন্যের ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে হয় এবং ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,“যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” — (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)
আরও পড়ুন:
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ককে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন,“মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের মতো। যখন তার কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন সমগ্র দেহ জ্বর ও নিদ্রাহীনতায় তার সঙ্গে অংশ নেয়।” — (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুন:
সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে কখনো কষ্ট বা দুঃখের সম্মুখীন হলে ধৈর্য ধারণ করা উচিত। কারণ মুমিনের জীবনের প্রতিটি কষ্টই তার জন্য কল্যাণ ও গুনাহ মাফের কারণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন,“মুমিনের শরীরে কাঁটা বিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে যে কোনো কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।” — (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)আরও পড়ুন:
ইসলামে সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো মানুষের প্রাপ্য অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা এবং অকারণে সম্পর্ক ছিন্ন না করা। মতের অমিল বা মনোমালিন্যের কারণে সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা বা মেলামেশা করা বাধ্যতামূলক নয়; তবে কারও হক নষ্ট করা কিংবা সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা ইসলাম সমর্থন করে না।
আরও পড়ুন:
মহান আল্লাহ বলেন,“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, আর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকটবর্তী প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।” — (সূরা নিসা: ৩৬)
আরও পড়ুন:
মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি করা শয়তানের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারলে সে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“ইবলিস তার সিংহাসন পানির ওপর স্থাপন করে এবং তার বাহিনীকে পাঠায়।
তাদের মধ্যে যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে সক্ষম হয়, সে-ই ইবলিসের নিকট সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে।” — (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮১৩)অন্যদিকে, মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া এবং সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। রাসুল (সা.) বলেছেন,“আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা রোজা, নামাজ ও সদকার চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ? তা হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করা। কারণ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়া দ্বীনকে ধ্বংস করে দেয়।” — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১৯)
সুতরাং একজন মুমিনের কর্তব্য হলো ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, সহানুভূতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মানুষের অধিকার আদায় এবং সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। কেননা পৃথিবীতে শান্তি ও আখিরাতে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো মুমিনদের মধ্যে ভালোবাসা, ঐক্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।