পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো আবার তার পুরনো রূপ ফিরে পেতে চলেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যেই এই নতুন বাংলো পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে এই বাংলো পুনর্নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার নির্মীয়মাণ বাংলোর কাজ পরিদর্শনে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। পরিদর্শন শেষে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মাদারিহাটের এনআইসিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকও করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতের এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল ১৯৬৭ সালে তৈরি শতাব্দী প্রাচীন এই কাঠের বাংলোটি। পরে তদন্তে জানা যায়, তিন তলার একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কাঠের তৈরি এই অনন্য বাংলোটিকে রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলা হতো। এটি পুড়ে যাওয়ায় দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে গভীর মন খারাপের সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের আবেগ ও দাবির কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার বাংলোটিকে হুবহু আগের আদলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন:
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই তিনতলা বাংলোটি তৈরি করতে মোট ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তবে স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার কাঠামোগত কিছু বদল আনা হচ্ছে। নতুন বাংলোর মূল কাঠামোটি কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হলেও, বাইরে থেকে দেখে তা বোঝার উপায় থাকবে না। কাঠের সেই পুরনো অনুভূতি ধরে রাখতে বাংলোর ভেতর ও বাহির সম্পূর্ণভাবে দামি কাঠ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে। এর ভেতরের দিকে থাকবে শালকাঠের ফ্রেমে পাইন কাঠের আস্তরণ এবং বাইরের দিকে থাকবে শাল কাঠের ফ্রেমে সেগুন কাঠের কারুকার্য।
এছাড়া, পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার বাংলোটিতে আগুন প্রতিরোধের জন্য বিশেষ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
বাংলো পরিদর্শন শেষে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানান, হলং বাংলোকে আগের মতো করেই তৈরি করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং আগামী বছরের শুরুতেই তা পর্যটকদের উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনাও করছে সরকার। বনমন্ত্রী বলেন, বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশ এবং সাফারির টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল বা অনলাইন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জেলায় চা বাগান আর পর্যটনই হলো অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাই এই দুই ক্ষেত্রকে জোরদার করাই লক্ষ্য।