পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার ছয় জন লোকসভা সাংসদ একযোগে একনাথ শিণ্ডের শিবসেনায় যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতির জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টকেই দায়ী করলেন উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত। তিনি বললেন, ‘দেশের গণতন্ত্র যে ভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তার জন্য প্রাথমিক ভাবে দায়ী নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট।’ এর পাশাপাশি ‘বিদ্রোহী’দের উদ্দেশে রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় প্রকাশ্যেই বললেন, ‘আমি সকলের সামনেই বলছি, ঘরে থাকা মুশকিল হবে ওঁদের!

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক বিমানে দিল্লিতে পৌঁছান ওই ছয় সাংসদ। রাজধানীতে তাঁরা প্রথমে একনাথ শিণ্ডের পুত্র শ্রীকান্ত শিণ্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে একনাথ শিণ্ডের সঙ্গেও তাঁদের আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরই দলবদলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

যাঁরা এই পদক্ষেপে সামিল হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব। তাঁরা যৌথভাবে স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়ে শিণ্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে একীভূত হওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উদ্ধব শিবিরে অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছিল। সম্প্রতি দলের সাংসদদের নিয়ে ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেশ কয়েকজন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের মোট নয় জন সাংসদের মধ্যে ছয় জন যদি একসঙ্গে দলত্যাগ করেন, তাহলে তা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমর্থন হিসেবে গণ্য হতে পারে। সেই কারণে দলভাঙন সংক্রান্ত আইনগত জটিলতা এড়ানোর পথও তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা সক্রিয় হয়েছে উদ্ধব ঠাকরের শিবির। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন জানানো হতে পারে।

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে তাঁদের মধ্যে গভীর মতভেদ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগকে এখনও প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ উদ্ধবপন্থীরা।স্পিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের।