পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন, উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক নথিতে স্বাক্ষর করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এই চুক্তির হাত ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগের রূপরেখা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে এই বিশাল তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থের জোগান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই অর্থনৈতিক শান্তিচুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কারণ উভয় দেশই একটি বৃহত্তর চুক্তিতে স্বাক্ষর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পরই তহবিলের বিশদ বিবরণ জনসমক্ষে আনা হতে পারে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের দাবি। যুদ্ধবিরতির জন্য তৈরি হওয়া সমঝোতার খসড়ায় ইরানের ওপর আরোপিত বেশ কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, এই শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পর কৌশলগত হরমুজ প্রণালী আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নতুন এই তহবিলটি কোনো ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি পুরোপুরি বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর একটি আর্থিক কাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অর্থ লগ্নি করবে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার একাধিক সংস্থা এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুরুর দিকে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান বিশাল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল।
কিন্তু সেই প্রস্তাবে সব পক্ষ সম্মতি না দেওয়ায় বিকল্প হিসেবে একটি উন্নয়ন ও পুনর্গঠনভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ধারণাটি সামনে আসে।আরও পড়ুন:
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশ ঋণের নিশ্চয়তা, আর্থিক সহায়তা কিংবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই শান্তিচুক্তি পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোয় অবদান রাখতে পারবে। যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণে এই বিশাল অর্থ ব্যয় করা হতে পারে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক দশকে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে বিদেশি বিনিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে কম ছিল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল স্রোত থেকে দেশটির সংযোগ ছিল সীমিত। ফলে এই নতুন উদ্যোগকে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।