দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই ঘোষণা করেন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। বৈঠকে জানানো হয়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাস যোজনার দ্বিতীয় পর্যায়ের উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরির সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ২০ আগস্ট করা হয়েছে।
শিবরাজ সিং চৌহান জানান, পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে সড়ক, রেল, মেট্রো, গ্যাস পাইপলাইন-সহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ৮২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিবি জি রামজি’ (১২৫ দিনের কাজ)-এর আওতায় আগামী ৯ মাসে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার কাজ হবে, যার মধ্যে ৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ৫০ দিনের কাজের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানান তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই প্রকল্পের অধীনে দক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
এছাড়া ‘দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা’-র আওতায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার জন্য ২৪৫ কোটি টাকা এবং কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড হিসেবে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের আরও প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষকে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে রাজ্যে ২,৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
কৃষিক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আইসিএআরের বিজ্ঞানীরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি ‘বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ’ তৈরি করছেন। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াকে ‘ধনধান্য’ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং মালদহে আম গবেষণার জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি আইসিএআর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে বারাকপুরে ‘কেন্দ্রীয় পাট ও সহযোগী তন্তু অনুসন্ধান সংস্থা’ পরিদর্শনে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি পাটের ‘বীজ হাব’ গড়ে তোলার আশ্বাসও দেন শিবরাজ সিং চৌহান।