পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত ২০ জুলাই ছাত্র-যুবকদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে যে ভয়াবহ অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল দিল্লি পুলিশ। ওই দিনের মিছিলে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের আড়ালে কারা তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছেন তদন্তকারীরা। আধুনিক ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম’ বা মুখের আদল শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে ইতিমধ্যেই ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের নামেই পূর্বে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

মূলত এই দুষ্কৃতীরাই সেদিন পুলিশের ওপর হামলা, ব্যারিকেড ভাঙা এবং সরকারি সম্পত্তি ও গাড়ি ভাঙচুরের মতো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

গোটা পরিস্থিতি ও দুষ্কৃতী শনাক্তকরণের বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৯৮৯ জনের অতীত অপরাধের রেকর্ড অত্যন্ত গুরুতর। চাঞ্চল্যকর এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে খুন এবং ৬২ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি, ২৮৪ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ৬১ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ২৫ জনের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহ, ১৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং ৬ জনের বিরুদ্ধে শিশুর ওপর অত্যাচারের মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে পুলিশের খাতায়। এমনকি ২২৯ জন এমন রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু হয়েছিল।

সাধারণ আন্দোলনকারী এবং দাগি অপরাধীদের সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে প্রশাসন। দিল্লির পুলিশ ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রকৃত ছাত্র ও যুব আন্দোলনকারীদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে, যার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব পোষণ করেছে যে, সাধারণ পড়ুয়াদের ওপর থেকে মামলা উঠলেও ২০ তারিখের তাণ্ডব ও অশান্তির তদন্ত কোনওভাবেই বন্ধ হবে না। সিসিটিভি ফুটেজে যে সমস্ত অপরাধমূলক অতীত থাকা ব্যক্তিদের তাণ্ডব চালাতে দেখা গিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে দিল্লি পুলিশ।