সরকারি হাসপাতালে ওষুধের মজুত ও মেয়াদ নিয়মিত খতিয়ে দেখতে নয়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করতে চলেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতাসহ রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে প্রতি সাত দিন অন্তর ওষুধের স্টক অডিট করা হবে। কোনও ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, অডিটে গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে শোকজ চাওয়া হবে।

সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মানসী দে। অভিযোগ, তাঁকে স্যালাইন দেওয়া শুরু হতেই বুকে জ্বালা অনুভব করেন। তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে-র দাবি, পরে দেখা যায় স্যালাইনের মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল পরিমাণ ওষুধের মধ্যে প্রতিটির মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় স্বাস্থ্যদপ্তর। এরপরই ওষুধের স্টক অডিট আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে পড়ে ছিল।

তাই এবার থেকে শুধু স্টোররুম নয়, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, কক্ষ ও অন্যান্য অংশে নিয়মিত চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে। যেখানে যে ওষুধ থাকবে, তার উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ শেষের তারিখ খতিয়ে দেখা হবে। কোনও ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, তা ২৪ ঘণ্টা আগেই হোক বা তারও আগে, অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ওল্ড মালদহ গ্রামীণ হাসপাতালেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করতেই ওষুধ সংরক্ষণ, নজরদারি ও অডিট ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।