পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সরকার তাদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে, এমনকি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফাও দিয়েছেন। তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এবার তারা নতুন করে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ধৃত আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। আর নিজেদের অরাজনৈতিক বলে দাবি করা এই সংগঠনের আইনি তহবিলেই এক কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং আইনজীবী কপিল সিব্বল। এমনকি গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় বিক্ষোভের নামে যারা অশান্তি পাকিয়েছিল, তাদেরও পাশে দাঁড়িয়েছে সিজেপি।
আরও পড়ুন:
সোমবার বিকেলে কপিল সিব্বলকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি নেতৃত্ব। সেখানে সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। কথা ছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি বা পুলিশি পদক্ষেপ করা হবে না। কিন্তু বাংলা, বিহার এবং দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এরপরই কপিল সিব্বল জানান, অসম, বাংলা, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পথে নামা ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা লড়তেই এই তহবিল তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেখানেই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, সেখানে তাঁদের আইনজীবীরা আইনি সাহায্য দেবেন এবং এই লড়াইয়ের যাবতীয় খরচ নবগঠিত তহবিল থেকেই মেটানো হবে।আরও পড়ুন:
তবে এই সাংবাদিক বৈঠকের পর একাধিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ে সিজেপি-র বিক্ষোভ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতো এবং জলের বোতল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপ সাধারণ পড়ুয়াদের কাজ হতে পারে না, এর নেপথ্যে বহিরাগতদের হাত রয়েছে। অথচ সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি সেই অভিযুক্তদেরই সাধারণ শিক্ষার্থী বলে দাবি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাংবাদিক ও পুলিশ নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে তাদের মুখে একটি শব্দও শোনা যায়নি।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, সিজেপি-র এই বিপুল অঙ্কের তহবিল গঠন নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই তহবিলে ফরেন কন্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রেগুলেশন আইন (এফসিআরএ) ভেঙে বেআইনিভাবে বিদেশি অনুদান আসবে কি না।