পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে প্রতিবাদ বা আন্দোলনে শামিল হলে পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতিও থাকা উচিত। বুধবার রাজ্যসভায় বাম ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেফতারের চেষ্টার বিষয়ে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাবে ঠিক এই ভাষাতেই পুলিশের হয়ে সাফাই গাইলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা। নিজের ছাত্রজীবনের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেস জমানায় তাঁকেও বহুবার ক্লাসরুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সংসদের সভাপতি তথা বর্তমান এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকে ধরতে সোজা দিল্লির সিপিএম সদর দফতরে পৌঁছে যায় পুলিশ। সিপিএমের দাবি, ২০২১ সালের একটি পুরনো মামলাকে হাতিয়ার করে যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণেই ঐশীকে টার্গেট করা হচ্ছে।

বুধবার রাজ্যসভায় এই পুলিশি অভিযানের বিষয়টি উত্থাপন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস। তাঁর অভিযোগ, সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা জোরপূর্বক দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে ঐশীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এই ইস্যুতে সিপিএম সাংসদকে পূর্ণ সমর্থন জানান রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়গে। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সদর দফতরে পুলিশের এহেন প্রবেশকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দেশে এখন গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষ কেউই নিরাপদ নন। পাশাপাশি, ওই অভিযানে যুক্ত আধিকারিক এবং তাঁদের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও তোলেন তিনি।

রাজ্যসভায় বিরোধীদের এই তীব্র আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাজের যৌক্তিকতা বোঝাতে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্র যে দু'জন মন্ত্রীকে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছিল, নড্ডা তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝেই তিনি স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশকে অনেক সময়ই কড়া হতে হয়। ছাত্রনেতারা আন্দোলন করতে গিয়ে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিলে প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারে না। তাই রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের ময়দানে এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত একটি বিষয় বলেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।