পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার অনিয়মকে কেন্দ্র করে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র নেতৃত্বে চলা সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা প্রয়োজন, কারণ পূর্ববর্তী নির্দেশিকাগুলি পুলিশ যথাযথভাবে মেনে চলেনি। অভিযোগের একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনো আধিকারিক বা ব্যক্তি যদি অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তবে তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। সুপ্রিম বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ প্রদর্শন করা নাগরিকদের একটি সাংবিধানিক অধিকার।

প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি জে. ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দিল্লি ও দেশের অন্যান্য প্রান্তে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছিলেন। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত পর্যবেক্ষণ করেন, “একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যিনি বা যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, আইন নিজের পথেই চলবে। যদি কারোর ওপর দায় বা দায়িত্ব নির্দিষ্ট না করা যায়, তবে সেই তদন্তের কোনো অর্থই থাকে না।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারীরা ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। কেন্দ্র সরকার এবং দিল্লি পুলিশের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর যদি কোনো অন্যায্য বলপ্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে কেন্দ্র সরকার বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না।