পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: টানা ১৩ দিন ধরে ইরানের ওপর লাগাতার সামরিক অভিযান চালানোর পর আপাতত হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কোনও হামলার নির্দেশ দেননি। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি দাবি করলে আমেরিকা যে কোনও মুহূর্তে পুনরায় আক্রমণের পথে হাঁটতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে গোলাবারুদের ঘাটতির একটি জল্পনাও সামনে এসেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর-সহ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে আসার কারণে শুক্রবারের একটি পূর্বপরিকল্পিত বড় সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়। সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে এই মজুত হ্রাসের বিষয়টি অবগত করেছিলেন। যদিও সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মনে করেন, এই ঘাটতি কোনও বড় সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ তাঁর মতে, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো সম্ভব হলে তাদের আকাশপথে আক্রমণের ক্ষমতা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আরও পড়ুন:
তবে অস্ত্রের ঘাটতির এই দাবিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস।
ওয়ালৎস জানিয়েছেন, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও একটু সময় দেওয়ার জন্যই এই সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে আমেরিকার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অস্ত্র মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনও দেশের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমেরিকার সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় সামরিক অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়ে ইরানের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে, অন্যথায় একটি চুক্তিতে পৌঁছানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান নিজেও এই মুহূর্তে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে চাইছে এবং সেটাই উত্তেজনার প্রশমনে একটি বিচক্ষণ কৌশল হতে পারে।