পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না বলে আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই আশ্বাস সত্ত্বেও বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। সোমবার সংসদে প্রবেশের আগে তিনি জানান, বিষয়টি এখনও নিজে যাচাই করে না দেখলেও তিনি এই খবরটি জানতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি-সহ মোট তিনটি দাবি সম্প্রতি মেনে নেয় সরকার। এরপরই গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে নিজেদের অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ককরোচ জনতা পার্টি।

 

সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাসও সরকারের এই প্রতিশ্রুতির কথা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরেও কেন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছে, তা নিয়ে বিরোধী শিবির সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রবল সরব হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সোমবারই প্রথমবার লোকসভায় যান ওড়িশার সম্বলপুরের বিজেপি সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান। সংসদ ভবনে কয়েকজন দলীয় সাংসদ তাঁকে স্বাগত জানান।

অন্যদিকে, এদিন সংসদ চত্বরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভে শামিল হন বিরোধী সাংসদরা।

এই জমায়েতে পরবর্তীতে যোগ দেন রাহুল গান্ধী এবং মহুয়া মৈত্রও। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট লুট এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরির অভিযোগ তুলে প্রবল স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশের দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহিও দাবি করেন বিরোধীরা। সংসদে বিরোধীদের এই প্রবল হইহট্টগোলের জেরে প্রথম দফায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। পরে ১২টার পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভের মাঝেই পরীক্ষা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আনতে একটি নতুন বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ফের দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।