পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিট বিতর্ক কেন্দ্র করে প্রবল হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল লোকসভার অধিবেশন। মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্য ঘিরে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে আক্রমণের অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্পিকার ওম বিড়লা দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন।

এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের দেশের গর্ব বলে অভিহিত করেন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, প্রতিবাদকারীরা কোনও ধরনের ঘৃণাভাষণ দেননি। বরং অভিভাবকরা ভীত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সাহসের সঙ্গে বিজেপি এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। এরপরই এক তরুণীর বক্তব্য উদ্ধৃত করতে গিয়ে একটি বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন কংগ্রেস নেতা।

একইসঙ্গে তিনি শাসকদলের সমর্থকদের অন্ধ ভক্ত বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনকারীরা অন্ধ ভক্ত হতে রাজি নন বলেই সরকারের রোষানলে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে রাহুল বলেন যে, তথাকথিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোকসভায় এসে বসার মতো সাহসটুকুও নেই।

রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরই শাসক বেঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অবিলম্বে ওই বিতর্কিত শব্দটি লোকসভার রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার আর্জি জানান। তীব্র বিতর্কের মুখে রাহুল নিজেও জানান যে তিনি ওই শব্দটি সরকারের উদ্দেশে প্রয়োগ করেননি এবং সেটি রেকর্ড থেকে বাদ দিলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কংগ্রেস সাংসদের কোনও মন্তব্যই রেকর্ডে রাখা হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তাঁর নির্দেশ না মানা হলে পরবর্তী বক্তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। এই সময় কংগ্রেস সাংসদরা রাহুলকে বলতে দেওয়ার দাবিতে সরব হন এবং পালটা এনডিএ সাংসদরাও প্রতিবাদ চালিয়ে যান। প্রবল হট্টগোলের জেরে শেষ পর্যন্ত নিট বিতর্ক সংক্রান্ত আলোচনার মাঝেই অধিবেশনের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেন স্পিকার।