পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রশ্ন ফাঁস এবং অনিয়মের বিতর্কের পর এবার পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে ‘এনটিএ’-এর বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক নিট পরীক্ষার্থীর পুনরীক্ষার কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে ভারতের বাইরে, সুদূর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আবুধাবিতে! আগামীকাল অথাৎ রবিবার এই পরীক্ষা হওয়ার কথা। এনটিএ-র এই চরম খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সরব হয়ে মোদি সরকার ও পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, "দেশের কোটি কোটি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এই জুয়া খেলা এবার বন্ধ হওয়া উচিত।

"

ভুক্তভোগী ছাত্রটির পরিবারের দাবি, আগামী ২১ জুনের নিট পরীক্ষার জন্য গত এক মাস ধরে দিনরাত এক করে প্রস্তুতি নিচ্ছিল নাগপুরের ওই পড়ুয়া। কিন্তু পরীক্ষার ঠিক দু'দিন আগে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, তার পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া হয়েছে আবুধাবির একটি স্কুলে। এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি লেখেন, "নাগপুরের এক ছাত্র এক মাস ধরে নিট পুনরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরীক্ষার ঠিক আগের দিন সে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতেই দেখল তার কেন্দ্র পড়েছে আবুধাবিতে!

ছেলেটির কোনো পাসপোর্ট নেই, তার পরিবারের কাছে বিদেশ পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই, আর হাতে কোনো সময়ও অবশিষ্ট নেই। সে সারারাত কেঁদেছে এবং পরীক্ষায় বসতেই অস্বীকার করছে—এই পরিস্থিতিতে একজন পড়ুয়া কী পরিমাণ মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি কেউ কল্পনা করতে পারেন?"

রাহুল গান্ধি লোকসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর কোটা সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এটি আর সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি গোটা প্রজন্মের টাকা, সময় এবং মানসিক শান্তি লুটের এক প্রাতিষ্ঠানিক খামখেয়ালিপনা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যে সংস্থা বা ব্যবস্থা একজন পড়ুয়াকে তার নিজস্ব শহরে একটি পরীক্ষাকেন্দ্র দিতে পারে না—উল্টে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়—তাদের দেশের এত বড় পরীক্ষা নেওয়ার কোনো অধিকারই নেই। আসলে এনটিএ দেশের পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। আমাদের সন্তানদের একটি সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং আমরা তা নিশ্চিত করব।"