পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের তহবিল তছরুপের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ধর্মের নামে দেশে লুটতরাজ চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, টাকা লুট করার উদ্দেশ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এলকে আদভানির রথযাত্রার পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত কেউ দেয়নি। রাম মন্দির নির্মাণের পর প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস সভাপতি।

খাড়গে আরও অভিযোগ তুলেছেন, এমন উদ্বেগজনক খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে, স্বয়ং পূজারী ভগবান রামের নামে আসা টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নতুন কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি বিকে হরিপ্রসাদের অভিষেক অনুষ্ঠানে খাড়গে এই অভিযোগ তুলেছেন বলে দ্য হিন্দু সংবাদমাধ্যম-এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টাকা লুটের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, আমি বহু আধ্যাত্মিক নেতাকে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে দেখেছি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই প্রতিমা স্থাপন করেছেন, মন্দির উদ্বোধন করেছেন এবং ফিতাও কেটেছেন। মন্দির থেকে নিয়মিত টাকা লুট হচ্ছে।

এই টাকা মোদীর অনুসারীরা লুট করছে নাকি অন্য কোনো চক্র এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তদন্তের দাবির কথা উল্লেখ করে খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, এই তদন্ত করতে কেন ১৫ দিন সময় লাগছে? যখন ঈশ্বর, মোদী এবং রাম মন্দির আপনাদের সঙ্গে রয়েছে, তখন রামের নামে যারা টাকা লুট করছে তাদের অবিলম্বে জেলে পাঠানো উচিত। কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ তোলেন, মানুষ ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ভোট দিলেও ধর্মের নামে লুটপাট চলছে। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং গরিবদের চরম অসুবিধায় ফেলা হচ্ছে। নিট পরীক্ষা পরিচালনা নিয়েও মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন। সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।