নসিবুদ্দিন সরকার, হুগলি: শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস। তারকেশ্বরের মাটিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্যাপন করতে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বর শহর সংলগ্ন বামনার পাড় এলাকায় তারকেশ্বর-শ্রীরামপুর ১২ নং বাস রাস্তার ধারে প্রধানমন্ত্রীর ওই অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল তৈরিকে কেন্দ্র করে ছিল সাজো সাজো রব। প্রায় ৩-৪ বিঘা তিন ফসলি উর্বর জমির উপর প্রধানমন্ত্রীর ওই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভাস্থলে একাধিক বিশালাকার ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টিতে মাঠে জল জমে যাওয়ায় কয়েকশো ডাম্পার গাড়ি করে পাথরের গুঁড়ো দিয়ে জমিগুলিকে উঁচু করা হয়েছে।
তার উপর বানানো হয়েছে শেড। তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড। ইতিমধ্যে হেলিকপ্টারের ট্রায়ালও সম্পূর্ণ হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা সভাস্থল। তারকেশ্বর বাবা তারকনাথের মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ওই মন্দিরে পুজো দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই মন্দিরসহ মন্দিরের দুধপুকুরকে গেরুয়া রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তারকেশ্বর রাজবাড়িকেও গেরুয়া রঙে সাজানো হয়েছে। রাস্তার দু-দিকে থাকা বড় বড় গাছের গুঁড়িতে গেরুয়া-সাদা রং করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই তীর্থস্থানকে কাশী বিশ্বনাথ তীর্থ স্থানের আদলে সাজিয়ে তোলা হতে পারে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ২ জুন তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে তারকেশ্বর গেস্ট হাউসে তিনি একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী তারকেশ্বর মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানোর কথা বলে গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করা হবে।
মন্দিরে ‘আধ্যাত্মিক’ রং অর্থাৎ গেরুয়াকরণের ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরই মন্দিরের নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে গেরুয়া-সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হল।আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারকেশ্বরের ওই সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে রেল থেকে কৃষি, গ্রাম উন্নয়ন থেকে মৎস্য, ফসল বিমা যোজনা, ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং, প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা-সহ পিএম কৃষক নিধি যোজনায় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা করে পৌঁছে দেবেন। ২৩ তম পিএম কৃষক নিধি যোজনায় কৃষকদের মোট ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন। এ ছাড়াও গার্ডেনরিচ থেকে ভারতে তৈরি নৌবাহিনীর ৩ টি জাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করারও কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।
আরও পড়ুন:
অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ওই সভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। তারকেশ্বরে ওই সভায় মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে পূর্ব রেল এ দিন অতিরিক্ত আরও ৭টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই বিশেষ হাওড়া-তারকেশ্বর, তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি, তারকেশ্বর-আরামবাগ, আরামবাগ-তারকেশ্বর, তারকেশ্বর-গোঘাট, গোঘাট-তারকেশ্বরের মধ্যে চলাচল করবে। ট্রেনগুলি প্রতিটি স্টেশনে থামবে।