পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে ডিআর কঙ্গোকে পাওয়ায় নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল পর্তুগাল। অথচ প্রথম ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের হতাশ করেছে তুলনায় কমজোর টিম কঙ্গো। বলা ভালো পর্তুগালকে ম্যাচে নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত করেছেন ইয়োনে উইসা। ঐতিহাসিক ড্রয়ের রাতে ডিআর কঙ্গোর পাশাপাশি বিশ্বফুটবলে নায়ক বনে গিয়েছেন উইসা। তার শক্তিশালী হেড থেকেই ৫২ বছর পর ডিআর কঙ্গো বিশ্বকাপে প্রথম গোল অর্জন করে।

যে গোল তাদের শক্তিশালী পর্তুগালের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ১-১ গোলে স্মরণীয় ড্র এনে দেয়।
এ ম্যাচে উইসার গোলের উচ্ছ্বাসের আড়ালে অবশ্য লুকিয়ে রয়েছে এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প। পর্তুগালের বিপক্ষে তার অভাবনীয় গোল ইয়োনে উইসাকে বিশ্বকাপের নায়ক হিসেবে দেখছে ফুটবল বিশ্ব। অথচ পাঁচ বছর আগে কঙ্গোর এই মুসলিম ফুটবলারের ফুটবল কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁতে খেলার সময় নিজের বাড়িতে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন তিনি।
এক মহিলা তার ভক্ত সেজে বাড়িতে এসে উইসার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। এমনকী তারা উইসার মেয়েকে সেই সময় অপহরণের চেষ্টাও করেছিল।
সেই অ্যাসিড হামলায় উইসার দুটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারেন। বাধ্য হয়ে সেই সময় তার দুই চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে।
এবং চিকিৎসকরা তাকে আজীবন চোখে আই ড্রপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। মূলত, তারপর থেকে তিনি নিয়মিত চোখে ড্রপ ব্যবহার করে আসছেন। এ দিন সেই চোখে পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর হার না মানার লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখল গোটা বিশ্ব। তার গোলই এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখল নতুন ইতিহাস। কারণ পর্তুগালের বিপক্ষে উইসার একমাত্র গোলেই ডিআর কঙ্গো অর্জন করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান একটি পয়েন্ট।