পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : বিশ্বকাপে সব বড় দলই মাঠে মাঠে নেমে পড়েছে। ব্রাজিল, হল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগালের মতো বড় দলগুলি যেমন আটকে গেছে। তেমনই বড় জয় পেয়েছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সের মতো দলগুলি। কুরাসাওয়ের মতো দুর্বল দলের বিরুদ্ধে জার্মানির ৭-১ ব্যবধানে জয় কি চলতি বিশ্বকাপে সেরা ম্যাচ বলা যাবে? রাত জেগে ইংল্যান্ড,ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ যারা দেখেছেন, জার্মানি, কুরাসাওয়ের লড়াইকে এই ম্যাচের ধারে কাছে রাখবেন না। ম্যাচ তো নয়, এ যেন হলিউডি ‘থ্রিলার’। রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয় ইংল্যান্ডের। জোড়া গোল করে নায়ক ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন।
প্রতিটা বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ড শুরু করে ‘ডাকহর্স’ হিসেবে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

প্রথম ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যে ফুটবল উপহার দিলেন হ্যারি কেনরা, ‘থ্রি লায়ন্স’দের নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারেন সমর্থকরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুরন্ত ফুটবল। তবে ক্রোটরাও চোখে চোখ রেখে ফুটবল খেলছিল। লুকা মদ্রিচের ভুলে ম্যাচের ১২ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১১ মিনিটে বক্সের মধ্যে মাদুয়েকে ফাউল করেন মদ্রিচ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। হ্যারি কেনের শট আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ। ‘ভিএআর’ দেখা যায় কেন শট নেওয়ার আগেই গোললাইন থেকে সরে গিয়েছিলেন লিভাকোভিচ। আবার শট নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।

সমতা ফেরানোর জন্য অবশ্য বেশিক্ষণ সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে গোল করে সমতা ফেরান মার্টিন বাতুরিনা। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড বলের নাগাল পেলেও গোল বাঁচাতে পারেননি। সমতা ফেরার ৪ মিনিটের মধ্যে আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের কর্নার বক্সে ভেসে আসতেই দুরন্ত হেডে গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। প্রথমার্ধে এই গোল অবশ্য রক্ষা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ইনজুরি সময়ের ৫ মিনিটের মাথায় আবার সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। বক্সে ভেসে আসা বল ইভান পেরিসিচ হেডে নামিয়ে দেন। চলতি বলে দারুণ শটে গোল করেন পিতর মুসা।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য ইংল্যান্ড।
জুড বেলিংহাম, ননি মাদুয়েকে, ডেকলান রাইসরা একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ব্যতিব্যস্ত করে দিচ্ছিলেন ক্রোয়াশিয়ার রক্ষণকে। বলের নিয়ন্ত্রণ, গতিতে ক্রোয়েশিয়াকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। আক্রমণ থেকে শুরু করে মাঝমাঠ ও রক্ষণে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেনি ক্রোয়াটরা।  বিরতির পর ৪৭ মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে প্রচণ্ড গতিতে উঠে গিয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা মার্কাস রাশফোর্ড। 
এ দিন জোড়া গোল করার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় হ্যারি কেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন। এর আগে এককভাবে রেকর্ডটি ছিল গ্যারি লিনেকারের দখলে। গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেনের দুজনেরই বিশ্বকাপে ১২ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১০।  ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৫ ম্যাচে ৮১ গোল  করে ফেললেন কেন।