পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামীকাল শুক্রবার জেনেভায়। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আগেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল এই চুক্তি সম্পন্ন হলেই খুলে দেয়া হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে সই করেছেন। চুক্তির পর ট্রাম্প দ্রুত জাহাজ চলাচলের আহ্বান জানালেও, এখনই প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।

চুক্তির পর গত তিন দিনে মাত্র সাতটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে, যেখানে ৫৫০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও জলপথটির দুই প্রান্তে অপেক্ষমাণ রয়েছে।

জাহাজ পরিবহন এবং সামুদ্রিক বিমা কোম্পানিগুলো এখনই এত বড় ঝুঁকি নিতে নারাজ। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, পুরোদমে জাহাজ চলাচল শুরু হতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই বিলম্বের মূল কারণ হলো মাইন আতঙ্ক। প্রণালির তলদেশে এখনও মাইন পাতা থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মাইন অপসারণ করে একটি নিরাপদ করিডর তৈরি করতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি রয়েছে বিমা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর শঙ্কা। যুদ্ধের কারণে জাহাজের যুদ্ধঝুঁকি বিমার কিস্তি স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমা কোম্পানিগুলো এই পথে জাহাজ চলাচলে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। এছাড়া, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নতুন ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে, যা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথে আরও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। ফলে এখনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের মতো মসৃণভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্ট মহল।