পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানে পা রাখার পরপরই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে নিজে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এছাড়াও ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম, রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এবং পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সমন্বিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভ্যর্থনা জানান। মূলত দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যেই ইরানের রাষ্ট্রপতি এই পাকিস্তান সফরে এসেছেন।

মঙ্গলবার মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানে পৌঁছানো মাত্রই তাঁর সম্মানে বিশেষ নিরাপত্তা ও সামরিক প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। তাঁর বিমানটি যখন অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল, তখন পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশসীমা প্রদক্ষিণ করে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করে। এরপর ইরানের এই শীর্ষ নেতাকে স্বীকৃতি প্রদানের অংশ হিসেবে ২১ বার গান স্যালুট দেওয়া হয়। সফর সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পথে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

সুইজারল্যান্ডের বুরেগেনস্টকে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনার পরপরই এই সফরটি ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই বৈঠকে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রূপরেখা তৈরির বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এই কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাকিস্তান সফরকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সফরকালে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে পাকিস্তানে প্রথম সরকারি সফর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই সফর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে এবং বিভিন্ন খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে তেহরানের দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এই সফরটি উভয় দেশের জন্য এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসলামাবাদ ও তেহরান অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, সীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রধান আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে।