ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি আবারও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও বর্তমান রূপে গড়ে উঠত না। পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে তিনি ইহুদি ও জুডিও-খ্রিস্টান মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে ইহুদি সংবাদ সংস্থা জুইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাকাবি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো মূলত ইহুদি ও খ্রিস্টান ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “ইসরায়েল ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ও পরিষ্কার।
”আরও পড়ুন:
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বিভিন্ন সময় নীতি ও কূটনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে এসব মতবিরোধকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি অত্যন্ত দৃঢ়।
আরও পড়ুন:
হাকাবির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা একটি গভীর ঐতিহাসিক ও আদর্শিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি এই সম্পর্ককে একটি “অভেদ্য বন্ধন” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, ভবিষ্যতেও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব অটুট থাকবে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক বিকাশকে অত্যন্ত সরলীকৃতভাবে উপস্থাপন করে। অন্যদিকে, ইসরায়েলপন্থী মহল হাকাবির বক্তব্যকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা ও অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে।
উল্লেখ্য, মাইক হাকাবি অতীতেও একাধিকবার ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক এই মন্তব্যও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।