ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই এক লক্ষ পদের মধ্যে ২০ হাজার পদে পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।

বাকি পদগুলি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পরিষেবায় পূরণ করা হবে বলে সূত্রের খবর।

সরকারি চাকরিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক-তৃতীয়াংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে অগ্নিবীরদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাবও বাজেটে রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিউটাউনে একটি আধুনিক সিভিল সার্ভিস ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভবিষ্যতের প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি কলকাতায় একটি নতুন সংস্কৃতি বিদ্যালয় স্থাপনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে বয়সসীমা সংক্রান্ত বিষয়ে। চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় পাঁচ বছরের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকা বহু প্রার্থী উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের জন্য মাসে অন্তত ২০ দিনের কাজ নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রাজ্য রিজার্ভ ফোর্সে দু’টি মহিলা ব্যাটেলিয়ন গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। কেওয়াইসি-নির্ভর জব কার্ডধারীদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে সরকারের দাবি।

রাজ্যের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এবারের বাজেটে বড় বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার।