পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা ২১শে জুলাইয়ের পুলিশি গুলি চালনার তদন্ত রিপোর্ট অবশেষে প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৩৩তম শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন, রাজ্য বিধানসভায় জাস্টিস চ্যাটার্জি কমিশনের এই বিস্ফোরক রিপোর্টটি পাঠ করে শোনান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ওই দিনটিতে আন্দোলনরত যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় এবং অযৌক্তিকভাবে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন:
তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহাকরণ অভিযানে গুলি চালানোর কোনও বাস্তব ভিত্তি ছিল না। বিক্ষোভকারীরা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে হামলা চালাতে পারে, এমন সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কার বশবর্তী হয়েই গুলি চালানো হয়েছিল।
অথচ মেয়ো রোড, ডোরিনা ক্রসিং বা রেড রোডের মতো যে সমস্ত জায়গায় পুলিশের গুলি চলেছিল, তা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থিত। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই এই চূড়ান্ত অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কোনও যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়নি বলে রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
এই রিপোর্টটি প্রকাশ্যে এনে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে সত্য আড়াল করতে কখনও এর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেননি। যদিও সেদিনের আন্দোলনের প্রধান মুখ তথা তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষ্য পর্যন্ত গ্রহণ করেনি এই কমিশন, যা কারও নির্দেশে হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, ওই ঘটনার বিষয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট ৪৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলেও পরবর্তীকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়।