পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে কড়া পদক্ষেপ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গত ১০ জুলাই নবান্নের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন ২০১১ সালের মে মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ঘটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।
আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, গত দেড় দশকে শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, স্বাস্থ্য, আবাসন, মৎস্য এবং পুরসভা ও পঞ্চায়েতের মতো একাধিক ক্ষেত্রে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন।
বিশেষ করে আম্পান ত্রাণ, একশো দিনের কাজ, মিড-ডে মিল, সরকারি চাকরি ও মেডিক্যাল শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং বেআইনি নির্মাণের মতো বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের তদন্তকারী বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন এক জন প্রবীণ আইপিএস আধিকারিক।আরও পড়ুন:
পাশাপাশি, প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাবেন এক জন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস স্তরের আধিকারিক এবং প্রযুক্তিগত দিকটি দেখভাল করবেন পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিসের এক অফিসার। রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে কমিশন প্রয়োজনে নতুন সদস্যও নিয়োগ করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
এই তদন্তকারী কমিশনের হাতে সিভিল কোর্টের সমতুল্য আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ কী ভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার অধিকারও দেওয়া হয়েছে তাদের। কমিশন চাইলে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও ব্যক্তিকে তলব করে তাঁর বয়ান রেকর্ড করতে পারবে এবং রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে বসে নিজেদের তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করার সুপারিশও করতে পারবে তারা। তবে, যে সমস্ত দুর্নীতির মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে রয়েছে, সেগুলিতে এই কমিশন কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।