অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রকে এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-কেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নোটিস জারির বিরোধিতা করলেও তা গ্রহণ করেনি শীর্ষ আদালত। বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্র এই বিষয়ে দায় এড়াতে পারে না।

এসআইটিকে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এবং রামমন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও প্রমাণ নষ্ট না হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রথমে এসআইটির স্টেটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারী দলের সদস্যদের নামও আদালতকে জানাতে হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তুষার মেহতা জানান, স্টেটাস রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দেওয়া হবে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২০ জুলাই।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন মন্দিরের একটি শৌচাগারে দাবিহীন অবস্থায় প্রায় ২ লক্ষ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত। পরদিন ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে প্রায় ৪০ দিনে অন্তত ৭০ বার প্রণামির অর্থ চুরি হয়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়, জুতো ও পুঁটলির মধ্যে লুকিয়ে অর্থ বাইরে পাচার করা হতো।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষও প্রশ্ন তোলেন, এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেও কেন এখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্তে নামেনি।
এদিন মামলার অন্যতম আবেদনকারী আইনজীবী অজয় কুমার রাই আদালতে জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্ত চান, যাতে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা সামনে আসে। সওয়ালের সময় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত হালকা রসিকতার সুরে বলেন, "এখানে এত জোরে বলবেন না, বাইরে গিয়েও তো বলতে হবে। এনার্জি ধরে রাখুন।"