পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ইরানের প্রাক্তন সর্বচ্চো নেতা আয়াতুল্লা সৈয়দ আলি খামেনির জানাজায় যোগ দিতে দেশটিতে যাচ্ছে ভারতের প্রতিনিধি দল। এদিকে, খামেনির মৃত্যুতে তাঁর ছবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শোকসভার আয়োজন করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু, সেই শোকসভায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। এই অভিযোগ তুলে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। মামলাটি দায়ের করেছে শিয়া আলেমদের সংগঠন ‘মজলিস উলেমা-এ-হিন্দ’।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ কালবে জাওয়াদ নকভির দায়ের করা এই আবেদনে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় শোকপালন, শোকমিছিল কিংবা আধ্যাত্মিক নেতাদের ছবি প্রদর্শনের কারণে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ বা আটক না করা হয়। 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং বিশ্বজুড়ে দ্বাদশ শিয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৬ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে শোকসভা ও কর্মসূচির আয়োজন করেন। তাতে আয়াতুল্লার ছবি প্রদর্শন করেন। অভিযোগ, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের শান্তিপূর্ণ শোকসভায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এছাড়াও, তাঁদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জনস্বার্থ মামলায় ২০২৬ সালের ৩ মার্চ সাহারানপুরে সংঘটিত একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ রাত্রিকালীন শোকমিছিল আয়োজন করা হয়েছিল। এই অভিযোগে ২৬ জনের নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি মোট ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে ২৯ মে উন্নাও জেলার একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা রয়েছে। অভিযোগ, পুলিশ একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে গিয়ে বাড়ির মালিকদের বাইরের দেওয়ালে টাঙানো আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের ছবি থাকা পোস্টার সরিয়ে ফেলে। সেই পোস্টারে শুধু লেখা ছিল,  ‘আমাদের নেতা, আমাদের গর্ব’। এর বাইরে কিছু লেখা ছিল না বলেই দাবি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তিগত বাড়ির ভেতর বা বাইরের দেওয়াল সংবিধানপ্রদত্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের আওতায় সুরক্ষিত। কোনো নাগরিককে শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী ধর্মীয় অভিব্যক্তি প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা সংবিধানবিরোধী, তা স্বেচ্ছাচারীতার পরিচয়।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শোক, সহানুভূতি এবং ধর্মীয় সংহতি প্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। বিশৃঙ্খলা ঘটার কোনও আশঙ্কা না থাকলে প্রশাসন এই অধিকার খর্ব করতে পারে না।

আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়েছেন, একজন ‘মারজা-এ-তাকলিদ’ বা শিয়া ধর্মীয় পথপ্রদর্শকের মর্যাদা বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে পোপের অবস্থানের সঙ্গে তুলনীয়। তাই তাঁর স্মরণসভা বা ছবি প্রদর্শনকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখানো শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় চেতনার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তাঁদের দাবি, উত্তর প্রদেশের শিয়া সম্প্রদায় বহু প্রজন্ম ধরে এই রীতি পালন করে আসছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রয়াত নেতার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা জানিয়েছে। এছাড়াও, কূটনৈতিক শোক পালনের কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছে। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের একই ধরনের শান্তিপূর্ণ অনুভূতি প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য বা আপত্তিকর বলে বিবেচনা করা সাংবিধানিক ও আইনি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের জেলা পুলিশ প্রধান, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।