পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল উত্তরাখণ্ড। দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে তারা নিজেদের বিধিবদ্ধ ‘মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। তার পরিবর্তে রাজ্যে চালু করা হয়েছে ‘মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি’ বা ‘সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’। এর ফলে এখন থেকে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, পার্সি, জৈন এবং বৌদ্ধ—এই ছয়টি বিজ্ঞাপিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ছাতার তলায় চলে আসবে এবং একই নিয়মকানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
আরও পড়ুন:
বুধবার ‘মাইনরিটি এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর অধীনে গঠিত এই ‘উত্তরাখণ্ড স্টেট অথরিটি ফর মাইনরিটি এডুকেশন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
এদিন থেকে এই পুরনো আইন ও নিয়মাবলী সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে গেছে। এর জায়গায় বলবৎ হয়েছে ‘মাইনরিটি এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০২৫’ এবং ‘উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস রিকগনিশন রুলস, ২০২৬’। বর্তমানে রাজ্যে ৪৫২টি নিবন্ধিত মাদ্রাসা রয়েছে, যা আগে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ছিল।নতুন এই ব্যবস্থার সূচনা করে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির হাতে সরকারি স্বীকৃতির শংসাপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এটি স্রেফ আরেকটি নতুন সরকারি দফতর তৈরি করা নয়, বরং রাজ্যের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের শক্ত ভিত গড়ার সিদ্ধান্ত। তাঁর সরকার প্রতিটি শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়, যাতে তারা আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সরকারি স্বীকৃতি না থাকা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বছর রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়েছিল ধামি সরকার। সেই সময় ২০০-রও বেশি মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়। এর পরেই গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নামে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। গত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিধানসভায় এই নতুন আইনটি পাস হয়।