পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলির উপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে বড় পদক্ষেপ করল আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সংস্থান রেখে মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটে পাশ হয়ে গেল একটি নতুন সংশোধিত বিল। মস্কোর মূল রাজস্বে কোপ মেরে ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের আর্থিক রসদ জোগানোর ক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই কড়া আইনের কারণে সরাসরি বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত ও চিন-সহ বিশ্বের অন্তত পাঁচটি দেশ।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক বসানোর প্রাথমিক প্রস্তাবটি গত বছর এনেছিলেন সদ্যপ্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

সেই সময় বিলটি কার্যকর না হলেও তাঁর মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগী হয় হোয়াইট হাউস। মূল প্রস্তাব সংশোধন করে শুল্কের পরিমাণ ১০০ শতাংশে নামিয়ে এনে সেনেটে পেশ করা হলে তা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদিত হয়। মঙ্গলবার বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৮৬টি এবং বিপক্ষে পড়ে মাত্র ১২টি ভোট। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মার্কিন সফরের মাঝেই আইনটি সেনেটের অনুমোদন পেল।

এই বিলের ফলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে সবথেকে বেশি উদ্বেগে পড়েছে নয়াদিল্লি।

কারণ, রাশিয়ার তেলের বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের তালিকায় চিনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। সাধারণত এই সমুদ্রপথ দিয়ে ভারতের আমদানিকৃত খনিজ তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ হত। এই সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আমদানির পরিমাণ অনেকটাই বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল নয়াদিল্লি।

আমেরিকার নতুন এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা, যাতে তারা রাশিয়ার থেকে তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল ইউরোপীয় দেশগুলির জন্য নীতিগত কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মাঝে তেলের বাজার সচল রাখতে গিয়ে ভারতের ওপর মার্কিন সেনেটের এই জোড়া ধাক্কা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, এখন তা নিয়েই কূটনৈতিক মহলে চরম চর্চা শুরু হয়েছে।