পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন ভারতের মুসলিমরা নিরাপদ নন-এমন দাবি করা হল দেশের চরিত্র ও ভাবমূর্তির ওপর আঘাত করা। একটি ইংরেজি সংবাদপত্র দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি জানিয়েছেন রিজিজু।
আরও পড়ুন:
ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেন, "ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয় বলে দাবি করা মানে দেশের চরিত্র হনন করা।" তাঁর মতে, সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নন-এমন বক্তব্য ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, গুজরাট এবং অন্যান্য রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে সমালোচনায় সরব হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের একাংশ। ফ্যাক্ট-চেকার মুহাম্মদ জুবেইর মুসলিমদের বিরুদ্ধে হুমকি ও উচ্ছেদের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিদ্বেষমূলক প্রচার ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এপ্রসঙ্গে গুজরাটের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, সেখানে ভিন ধর্মের কিছু নেতা মুসলিম পরিযায়ীদের ভাড়া বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তিনি বলেন, গুজরাটের আহমেদাবাদের নরোদা এলাকায় উত্তর প্রদেশ থেকে আসা এক মুসলিম অভিবাসীকে ভয় দেখিয়ে ভাড়া বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই গর্বের সঙ্গে এই ভিডিওটি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। জুবেইয়ের দাবি, কারণ সেই ব্যক্তি ভালো করেই জানেন পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবে না।আরও পড়ুন:
প্রবীণ সাংবাদিক সুভাষিণী হালদার বলেন, সংখ্যালঘুদের হুমকি ও তাদের বিরুদ্ধে ঘটনাগুলোই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, সংবাদমাধ্যমে সেগুলোর প্রতিবেদন নয়। মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ অপূর্ব নন্দ অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হয়রানি, হামলা ও বুলডোজার অভিযানের ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে প্রাক্তন আমলা আশিস যোশী বলেন, একটি রাষ্ট্র কতটা ন্যায়সঙ্গত, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো সংখ্যালঘুদের মধ্যে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা। তাঁর মতে, সংখ্যালঘুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব।