রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় ভাঙন এবং একের পর এক নেতার দূরত্ব তৈরি হওয়ার আবহে ফের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে তিনি একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবীর বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে শেয়ারিংয়ে নিন।

এতে সমস্যার তো কিছু নেই। আমি চাই উনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুন এবং আবারও নির্বাচনে লড়ুন।”

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদের দলত্যাগের জেরে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতেই প্রাক্তন দলনেত্রীর প্রতি সহানুভূতির সুর শোনা গেল রেজিনগরের বিধায়কের গলায়।

হুমায়ুনের দাবি, যাঁদের উপর দীর্ঘদিন ভরসা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁদের অনেকেই এখন আর তাঁর পাশে নেই। এই পরিস্থিতিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চান, তৃণমূল নেত্রী রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যান এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও সেই লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের শেষ দিকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেন হুমায়ুন কবীর। সেই সময় তিনি রাজ্যের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন।

তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

এর আগেও হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচনে লড়ে জয়ের বিষয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তাহলে তিনি নিজের রেজিনগর আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “রেজিনগরে আমার কথাই শেষ কথা। নেত্রী চাইলে আমি ওনাকে বিধানসভায় পাঠানোর দায়িত্ব নিতে পারি।”

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই অবস্থান ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।